পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে মোট ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটের আওতায় অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরাদ্দের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উজানটিয়া জুনিয়র হাইস্কুলে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ৩ কোটি টাকা, মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক ভবনের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করছেন।
শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল। ৩ কোটি টাকার এ বরাদ্দ বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। নতুন ভবন নির্মিত হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে সরকারের এই উদ্যোগ এবং তাঁর সহযোগিতার জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ একটি এলাকার টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। পেকুয়ার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বরাদ্দ অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। প্রকল্পগুলো দ্রুত ও গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়িত হলে হাজারো শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে। ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বরাদ্দের খবরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে পেকুয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে।
